ভারতে আসা বিদেশিদের যাতায়াত সহজ করতে লোকসভায় পাশ হল ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স বিল, ২০২৫।’ এই বিলটির মাধ্যমে কেন্দ্র অভিবাসী ও বিদেশি সংক্রান্ত আইনকে পোক্ত করার চেষ্টা করছে। তাই পুরনো চারটি আইন প্রত্যাহার করে একটি আইনের মাধ্যমে ইমিগ্রেশনের পুরো বিষয়টি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতে আসা বিদেশিদের যাতায়াত, রেজিস্ট্রেশন ও ভিসা নিয়ন্ত্রণ করবে কেন্দ্র। তাতে দু’পক্ষের কাজই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) লোকসভায় বিলটি উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘অভিবাসন কোনো আলাদা বিষয় নয়। দেশের অনেক সমস্যা এর সঙ্গে জড়িত। জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে, দেশের সীমান্তে কারা প্রবেশ করে তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যারা দেশের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে তাদের ওপরও আমরা কড়া নজর রাখব। যারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশ কোনো ‘ধর্মশালা’ নয়। যদি কেউ উন্নয়নে অবদান রাখতে দেশে আসেন, তবে তাদের সর্বদা স্বাগত। গত দশ বছরে, ভারত পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে ভারত একটি উজ্জ্বল স্থান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারত উৎপাদনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে এবং সারা বিশ্বের মানুষ ভারতে আসা স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত লাভের জন্য এবং দেশকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য ভারতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। রোহিঙ্গা হোক বা বাংলাদেশি, যদি তারা অস্থিরতা তৈরি করতে ভারতে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এক্ষেত্রে শাহ স্পষ্ট করে দেন, বহু ভারতীয় বিদেশে গিয়ে সেখানকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যারা ভাল কাজের জন্য ভারতে আসতে চান এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চান, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো থাকা প্রয়োজন। বিল পাশের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অভিবাসন নীতি আরও সুসংহত ও আধুনিক হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টরা।
লোকসভায় অভিবাসন ও বিদেশি বিল ২০২৫-এর উপর উত্তর দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “আমরা প্রায় ২২০০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দিচ্ছি, বেড়া দেওয়ার জন্য মাত্র ৪৫০ কিলোমিটার এলাকা বাকি আছে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার বেড়ার জন্য জমি দিচ্ছে না। আমরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ১১টি চিঠি লিখেছি এবং রাজ্য আধিকারিকদের সঙ্গে ৭ দফা আলোচনা করেছি, কিন্তু তারা এখনও জমি দিচ্ছে না। বেআইনি অনুপ্রবেশ কেবল সেই এলাকা থেকেই ঘটছে এবং রাজ্য সরকার তাদের আধার কার্ড তৈরি করে দিচ্ছে। আধার কার্ড পাওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।”
অমিত শাহ জানান, ‘দক্ষিণ পরগনা জেলা দিয়েই সবচেয়ে বেশি বেআইনি অনুপ্রবেশ হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই, আমরা পরের বছর ২০২৬ সালে সরকার গঠন করব। বাকি অংশেও বেড়া দেওয়ার কাজ হবে।’
অমিত শাহ এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ আনেন। বলেন, দেশের বহু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। রাজধানী দিল্লিও দখল করেছে। সেখানকার মানুষ এতদিন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পেতেন না। এবার থেকে পাবেন। তাঁরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকার সুবিধা পাবেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন একথা বলছেন তখন তৃণমূল সাংসদরা হই হট্টগোল শুরু করেন। ঠিক তখনই অমিত শাহ বলেন, ‘দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গেও কমল ফুটবে। তখন সেই রাজ্যের মানুষও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন।’
কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি মোদি সরকারের আগমনের আগের এবং পরের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন করতে গেলে গরীবদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিছু উদ্যোগ করতে হবে। বিনিয়োগ আনতে হবে। শিল্প বানাতে হবে। দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।’
খুলনা গেজেট/ টিএ